Previous
Next

সর্বশেষ

30 April 2019

মুসলমানের বিয়ের দাওয়াতপত্রে রাম-সীতার ছবি, বিপাকে কন্যার বাবা

মুসলমানের বিয়ের দাওয়াতপত্রে রাম-সীতার ছবি, বিপাকে কন্যার বাবা


আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ গাঁটছড়া বাঁধবেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরের এক মুসলিম দর্জির মেয়ে। ঘটা করে বিয়ের কার্ড ছাপিয়েছেন। আর সেই কার্ডে ছবি দিয়েছেন হিন্দু দেবতা রাম এবং সীতার। আর এতেই তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেছেন স্থানীয় এক ইমাম। এতটাই চটেছেন যে, কার্ড দেখা মাত্রই মেয়ের বাবাকে মুখের ওপর বলে দিয়েছেন, 'এই বিয়েতে আসব না!'

মুসলিম বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার জন্য একজন ইমামকে থাকতেই হয়। কিন্তু এই ইমাম মুখের ওপর না বলে দেওয়ায় বেজায় চাপে পড়েছেন কন্যা এবং পাত্রের বাবা। মেয়ের বাবা ইবাদত আলিকে ওই ইমাম বলেছেন, 'বিয়ের কার্ডে কোনো ভগবানের ছবি থাকা মানে সেটা ধর্মসম্মত নয়'। শাহজাহানপুরের আল্লাগঞ্জ এলাকাটি একটি হিন্দু অধ্যুষিত অঞ্চল। আর সেখানে একটি মাত্র মুসলিম পরিবার এই ইবাদত আলির। ৩০ এপ্রিল ২০ বছরের মেয়ে রুকশারের বিয়ে দিচ্ছেন।

বিয়ের তোড়জোড় করতে চরম ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন ইবাদত। গ্রামবাসীদের বলেছিলেন, মেয়ের বিয়ের জন্য ২৫০টি কার্ড ছাপিয়ে দিতে। ঝঞ্ঝাটের শুরু হয় যখন তিনি ক্যালেন্ডারের মতো কার্ডগুলি গ্রামবাসীদের বিলি করতে শুরু করেন। আর সেই ক্যালেন্ডারেরই নীচে রাম আর সীতার ছিব।

ইবাদতের কথায়, 'কার্ড দেখে ঠিক করার আগেই ছাপা হয়ে গিয়েছিল। আমি বুঝতেই পেরেছিলাম এই ছবি আমাকে সমস্যায় ফেলবে। আর ঠিক তাই হল'। সেই ইমাম ইবাদতকে কার্ডটি বদলে ক্ষমা চেয়ে অন্য একটি কার্ড তৈরি করতে বলেছিলেন। কিন্তু ইবাদত মানতে রাজি হননি। পরিষ্কার বলে দিয়েছিলেন, 'আমার কাছে অতো টাকা নেই। এই বিয়ের পিছনেই আমার জীবনের সব সঞ্চয়ই শেষ হয়ে গেছে'। আর এক ইমামের কাছেও গিয়েছিলেন ইবাদত, তিনিও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তাকে।

তবে ইবাদতের সঙ্গে রয়েছে তার পড়শিরা। গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান অলোক মিশ্র বলছেন, 'ইবাদত আলিকে আমরা বহুদিন ধরে চিনি। ও খুব ভালো মানুষ। যেখান থেকেই হোক তার মেয়ের বিয়ের জন্য ইমাম খুঁজে নিয়ে আসব।

সূত্রঃ এই সময়

29 April 2019

বিএনপি যৌথ নেতৃত্বেই চলছেঃ রিজভী

বিএনপি যৌথ নেতৃত্বেই চলছেঃ রিজভী

ছবিঃ সংগৃহীত
স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ তারেক রহমানের একক নেতৃত্বে বিএনপি চলছে মর্মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে সংবাদ পরিবেশিত হয়েছে তার সত্যের অপলাপ বলে জানিয়েছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার বিকেলে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, অনলাইনে এবং বেশকিছু গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে যে তারেক রহমানকে দল পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে যা ঠিক নয়। বরং দলের কোনো কর্মসূচি নির্ধারণে আমরা যৌথ সভা করে থাকি । যেখানে যুগ্ম মহাসচিব, সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক বৃন্দ উপস্থিত থাকেন। এভাবেই আমাদের দল পরিচালিত হচ্ছে।

বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ নিতে না চাইলেও সরকারের পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে রিজভী অভিযোগ করেন। দলের সিদ্ধান্ত হচ্ছে ভোট ডাকাতির নির্বাচনের সংসদে বিএনপি যাবেনা।

তিনি বলেন, এইসব হচ্ছে রাজনৈতিক কারণে। কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেন রিজভী। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. সুকোমল বড়ুয়া, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন
রমজানে অফিস ৯টা থেকে সাড়ে ৩টা

রমজানে অফিস ৯টা থেকে সাড়ে ৩টা

ফাইল ছবি
স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ পবিত্র রমজান মাসের জন্য নতুন করে অফিস সময় নির্ধারণ করা হয়েছে মন্ত্রিসভার বৈঠকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই অফিসসূচি নির্ধারণ করা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) শামসুল আরেফিন জানিয়েছেন, এবার রোজায় সকাল ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অফিসের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। বেলা সোয়া ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত থাকবে জোহরের নামাজের বিরতি।

সকল সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত চলবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্ট, ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী অফিসসূচি ঠিক করে নেবে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৭ মে রোজা শুরু হতে পারে।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণে নেইঃ সংসদে অর্থমন্ত্রী

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণে নেইঃ সংসদে অর্থমন্ত্রী

ফাইল ছবি
স্বদেশবার্তা  ডেস্কঃ দেশের অর্থনীতি অত্যন্ত চাঙা ও শক্তিশালী হলেও বর্তমানে পুঁজিবাজারে নিয়ন্ত্রণ নেই বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, পুঁজিবাজার শক্তিশালী করার জন্য যা যা করার তাই করা হবে।

রোববার জাতীয় সংসদে আহসানুল হক টিটুর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, একটা দেশের অর্থনীতি যত শক্তিশালী হয়, তার প্রতিফলনটা আমরা দেখতে পাই পুঁজিবাজারে। পৃথিবীর সারা দেশেই এভাবে পুঁজিবাজার আর অর্থনীতি সম্পৃক্ত থাকে। আমাদের দেশের অর্থনীতি অত্যন্ত চাঙা ও শক্তিশালী। কয়েক দিন আগে আইএমএফের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছি। সেখানেও তারা আমাদের গতিশীলতা দেখে তারা অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত। সে সময় আরও যারা মিটিং করেছেন তারা সবাই বলেছেন, বাংলাদেশকে অনুসরণ করার জন্য।

তিনি বলেন, আমাদের এগিয়ে যাওয়া থমকে যাবে, যদি আমাদের পুঁজিবাজারকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি। আমি বলব, পুঁজিবাজারটি এখন নিয়ন্ত্রণে নাই। তবে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নাই, এটা বলব না। তবে পুঁজিবাজারে যেসব সমস্যা আছে এরই মধ্যে আমরা চিহ্নিত করেছি। সবগুলোই এক এক করে সমাধান দেব।

এ সময় প্রশ্নকারীকে আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, আমি আশ্বস্ত করতে পারি, সরকার অর্থনৈতিক এলাকায় যেমনিভাবে চিন্তা করে, তেমনি পুঁজিবাজার নিয়েও ততটা যত্নশীল। আমি নিজেও পুঁজিবাজারের সঙ্গে যারা সংশ্লিষ্ট তাদের সবাইকে নিয়ে এক দুই দফা মিটিং করেছি, আরও মিটিং করব। মিটিং করে পুঁজিবাজারকে আর ১০টি দেশে যেভাবে চলে সেইভাবেই চালাবার জন্য চেষ্টা করব। আমাদের বিচ্যুতিগুলো অবশ্যই দূর করব।

আসন্ন বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য প্রণোদনা থাকবে কি না এমন প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য প্রণোদনা থাকবে। কতটা থাকবে সেটা এই মুহূর্তে বলতে পারব না। তবে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার জন্য যাই কিছু করার প্রয়োজন তাই ব্যবস্থা করব।
শপথের শেষ দিন আজ

শপথের শেষ দিন আজ


স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ সংবিধান অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির বাকি পাঁচ সদস্যের শপথ নেয়ার শেষ দিন আজ। যদি আজকের মধ্যে তারা শপথ না নেন, তবে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

সংবিধানের পঞ্চম ভাগের প্রথম পরিচ্ছেদের ৬৭(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতা বলে এ বিষয়ে একক সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি। শপথ না নিলে আসন শূন্য ঘোষণা করবেন, নাকি আরও সময় দেবেন- তা নির্ধারণের এখতিয়ারও স্পিকারের। সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীই এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।

তবে তিনি মনে করেন, ‘বিএনপির বাকি সদস্যরাও শপথ নেবেন। রোববার যুগান্তরকে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘আশাকরি তারা (বিএনপির সদস্যরা) শপথ নেবেন। আমরা শেষমুহূর্ত পর্যন্ত তাদের জন্য অপেক্ষায় থাকব।’ বিএনপি থেকে নির্বাচিত একজনের শপথের পর বাকিরাও সংসদে যোগ দিতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন চলছে। এ নিয়ে দলের ভেতরে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। কেউ যাতে শপথ না নেন, সেজন্য নানাভাবে চেষ্টা চালাচ্ছেন দলের নীতিনির্ধারকরা। বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, বিজয়ী ব্যক্তিরা যাতে শপথ নেন সেজন্য সরকার নানাভাবে চাপ তৈরি করছে এবং তাদের নজরদারিতে রেখেছে।

এ অবস্থায় বিএনপির নির্বাচিতদের সঙ্গে দলীয় নেতাদের যোগাযোগ করাও দুরূহ হয়ে পড়েছে। এছাড়া বিজয়ী কেউ কেউ দলের শীর্ষ নেতাদের এড়িয়ে চলছেন। তারপরও থেমে নেই তাদের তৎপরতা। নির্বাচিতদের সঙ্গে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কথা বলছেন। তাদের নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করছেন।

এর অংশ হিসেবে রোববার সন্ধ্যায় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ফের জরুরি বৈঠকে বসেন। কিভাবে নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণ থেকে বিরত রাখা যায় তার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আটটি আসনে জয়লাভ করে। এর মধ্যে ছয়জন বিএনপির; বাকি দু’জন ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামের। নির্বাচনের পরপরই ভোটে ব্যাপক অনিয়ম এবং কারচুপির অভিযোগ তুলে তা প্রত্যাখ্যান করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানানোর পাশাপাশি তারা শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে এ সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে গণফোরামের দুই সংসদ সদস্যের মধ্যে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচিত সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদ গত ৭ মার্চ শপথ নিয়ে সংসদে যোগ দেন। তাকে অনুসরণ করে গণফোরামের প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়ে সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত দলটির আরেক নেতা মোকাব্বির খান গত ২ এপ্রিল শপথ নেন। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত জাহিদুর রহমান শপথ নেন। এ কারণে দল তাকে বহিষ্কারও করেছে। দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে এভাবে শপথ নেয়ায় বিএনপির হাইকমান্ডসহ সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বিব্রত। এরপর যাতে আর কেউ শপথ না নেন সেজন্য তারা তৎপর।

যদিও জাহিদুর রহমান জনগণের চাপে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে এ শপথ নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। রোববার তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘আমার বিশ্বাস শেষ মুহূর্তে হলেও বিএনপির নির্বাচিত বাকি পাঁচজনও শপথ নেবেন।’ এমনটাই মনে করেন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। রোববার যুগান্তরকে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি বিএনপি নিজের প্রয়োজনেই সংসদে আসবে।’ তবে শপথ না নেয়ার বিষয়ে এখনও অনড় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার যুগান্তরকে তিনি বলেন, ‘আমরা শপথ নেব না। দলগতভাবেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে কেউ শপথ নিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতিমধ্যে জাহিদুর রহমানকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, শপথ নেয়ার ব্যাপারে সরকারের দিক থেকে তাদের সদস্যদের ওপর চাপ রয়েছে। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সরকার এ ধরনের চেষ্টা করে থাকে। যদিও মির্জা ফখরুল ইসলামের এ দাবির বিরোধিতা করে মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে বিএনপির সদস্যদের ওপর চাপপ্রয়োগের প্রশ্নই ওঠে না। বিএনপির সদস্যরা তাদের প্রয়োজনেই সংসদে আসবেন।’ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিএনপি থেকে নির্বাচিত আরও তিনজন শপথ নেয়ার অপেক্ষায় আছেন। কৌশলগত কারণে প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও ভেতরে ভেতরে এমনটাই প্রস্তুতি তাদের।

এই তিনজন হলেন- বগুড়া-৪ আসন থেকে নির্বাচিত মো. মোশারফ হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত সদস্য মো. হারুন উর রশীদ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসন থেকে নির্বাচিত সদস্য আমিনুল ইসলাম। তাদের ইচ্ছা আছে কিন্তু দলের সিদ্ধান্তের কারণে দোটানায় পড়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হারুন উর রশীদ রোববার যুগান্তরকে বলেন, ‘এখন কোনো মন্তব্য নয়, পরে কথা হবে।’ অন্যদিকে শপথের বিষয়ে জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম রোববার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি।’ মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আমি এখনও দলীয় সিদ্ধান্তে অনড় আছি। দল যে সিদ্ধান্ত নেবে সেখানেই থাকব। তবে দলের রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। দেখা গেছে ১০ মিনিট আগেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন আসতে পারে।’ বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের সদস্য উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়াও শপথ নেবেন- এমন খবরের সত্যতা তার কাছে জানতে চাইলে রোববার যুগান্তরকে তিনি বলেন, ‘সময় শেষ হয়ে যায়নি। আশা করছি সবকিছু অচিরেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।’

সূত্র জানায়, মুখে যাই বলুক না কেন বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী এই চারজন সদস্যই শপথ নেয়ার অপেক্ষায় আছেন। স্থানীয় পর্যায়ের জনগণের চাপের কথা মুখে বললেও মূলত পারিবারিক চাপ আর নিজের ব্যক্তিগত ইচ্ছা এখানে মুখ্য হয়ে উঠেছে। দলের সিদ্ধান্তের চাইতে ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা প্রাধান্য পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে হলেও শপথ নিতে পারেন তারা। বিষয়টি আজকের মধ্যেই পরিষ্কার হবে।

সংবিধানের ৬৭(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- ‘কোনো সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হইবে, যদি (ক) তাহার নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে নব্বই দিনের মধ্যে তিনি তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা করিতে ও শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করিতে অসমর্থ হন; তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ মেয়াদ অতিবাহিত হইবার পূর্বে স্পিকার যথার্থ কারণে তাহা বর্ধিত করিতে পারিবেন।’ সংবিধানের এ বিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে তাদের শপথ নেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ হিসেবে আজকের (২৯ এপ্রিল) মধ্যে শপথ না নিলে আসনগুলো শূন্য হবে। একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় ৩০ জানুয়ারি। ২৯ এপ্রিল ৯০ দিন পূর্ণ হবে। এক্ষেত্রে একই অনুচ্ছেদের ‘অনুরূপ মেয়াদ অতিবাহিত হইবার পূর্বে স্পিকার যথার্থ কারণে তাহা বর্ধিত করিতে পারিবেন’- বিধানটি প্রয়োগ করে শপথ নেয়ার সময় বাড়াতে পারেন।

বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক এ প্রসঙ্গে রোববার যুগান্তরকে বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী কারও সদস্যপদ শূন্য ঘোষণা করা না করার পুরো এখতিয়ার একমাত্র স্পিকারের। নব্বই দিনের মধ্যে কোনো সদস্য শপথ না নিলে তিনিই করণীয় ঠিক করবেন। এক্ষেত্রে স্পিকার নির্বাচিত সদস্যকে শপথ নেয়ার জন্য আরও সময় দিতে পারেন, নাও পারেন। তবে সময় বাড়ানোর জন্য নির্বাচিত সদস্যকে স্পিকার বরাবর আবেদন করতে হবে। যার ওপর ভিত্তি করে স্পিকার শপথ নেয়ার সময় বাড়াতে পারেন।’ সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিএনপির নির্বাচিত পাঁচ সদস্য শপথ না নিলে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অবহিত করা হবে। এরপর নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। সূত্রঃ যুগান্তর