Previous
Next

সর্বশেষ

24 September 2018

চার হাজারেরও বেশি ওয়েবসাইট-অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে চীন

চার হাজারেরও বেশি ওয়েবসাইট-অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে চীন

ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ চার হাজারেরও বেশি ওয়েবসাইট এবং অনলাইন অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ।

দেশটির অনলাইন সাহিত্য থেকে রুচিহীন তথ্য মুছে ফেলার লক্ষ্যে তিনমাস ধরে পরিচালিত ক্যাম্পেইনে এসব ওয়েবসাইট ও অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া।

গত মে মাসে দেশটির পর্নোগ্র্যাফিক ও অবৈধ প্রকাশনা বিরোধী জাতীয় দপ্তর এবং রাষ্ট্রীয় প্রেস ও পাবলিকেশন প্রশাসন যৌথভাবে এই ক্যাম্পেইন শুরু করে।

একটি বিবৃতিতে সংস্থা দুইটি জানিয়েছে, আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে ১২০টি আইন লঙ্ঘনের মতো ঘটনা ঘটেছে। ২৩০টি প্রতিষ্ঠানকে অনিয়ম সংশোধনের নির্দেশ দেয়া এবং এক লাখ ৪৭ হাজার রুচিহীন তথ্য সরিয়ে নেয়া হয়েছে।


তারা জানিয়েছে, কপিরাইট আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি অনলাইন উপন্যাসগুলোতে মূল্যবোধহীনতা ও অশ্লীলতা ছড়ানোর মতো বিষয়বস্তু এই ক্যাম্পেইনের লক্ষ্যবস্তু ছিল। এই ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে অনলাইন সাহিত্যকে আরও পরিচ্ছন্ন করবে।

23 September 2018

উন্নত বিশ্বে দ্রুত বাড়ছে বয়স্ক মানুষ

উন্নত বিশ্বে দ্রুত বাড়ছে বয়স্ক মানুষ


স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ গোটা ইউরোপ মহাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কমছে জন্মহার, কমছে শিশু আর এর বিপরীতে দ্রুত বাড়ছে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা। বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বাড়ছে ৬০ অথবা তার চেয়ে বেশি বয়সের মানুষের সংখ্যা। অনেক উন্নত দেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি উদ্বেগজনক পর্যায়ে চলে গেছে। এক দিকে অগণিত মানুষ প্রাণন্তকর সাধনা করে যাচ্ছে কিভাবে আরো বেশি দিন পৃথিবীতে বেঁচে থাকা যায়, আরেক দিকে অনেক দেশ বয়স্ক মানুষ নিয়ে নানা ধরনের সঙ্কটের মুখোমুখি। জাপানসহ অনেক দেশে বয়স্কদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। উন্নত দেশে পূর্ণ আর্থিক নিরাপত্তা, উন্নত চিকিৎসাসহ বয়স্কদের জন্য যাবতীয় সুযোগ-সুবিধার আয়োজন থাকলেও তাদের প্রধান সমস্যা নিঃসঙ্গতা। অপর দিকে দারিদ্র্য বা অনুন্নত দেশে অধিক বয়স্ক মানুষ নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে পরিবারের লোকজন আর্থিক নিরাপত্তাহীনতা এবং উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা না থাকায়। এসব দেশে বয়স্করা সাধারণত পরিবারের সাথে থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই তাদের বোঝা এবং বিড়ম্বনা হিসেবে দেখা হয়।

বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বেশি গড় আয়ু জাপানের মানুষের, ৮৭ বছর। জাপানের মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে উন্নত জীবন যাপন পদ্ধতি, সংক্রামক ব্যধি প্রতিরোধ, শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস, উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা। বেশি দিন বেঁচে থাকার আশায় অনেক দেশের মানুষ জাপানিদের খাদ্যাভ্যাস ও জীবন যাপন পদ্ধতি মেনে চলার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাদের অনেকেই হয়তো জানেন না জাপান বর্তমানে বয়স্ক মানুষ নিয়ে কী ধরনের সঙ্কটের মুখোমুখি। জাপানে প্রতি বছর যে পরিমাণ মানুষ আত্মহত্যা করে তার মধ্যে শতকরা ৩০ ভাগের ওপরে রয়েছে বয়স্ক মানুষ। তবে ২০১৫ সালে জাপানে ২৪ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করে। জাপানে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে যারা আত্মহত্যা করে তাদের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে যাদের বয়স ৫০ থেকে ৫৯ বছর । দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যাদের বয়স ৮০ বছর বা তার বেশি। তৃতীয় স্থানে রয়েছে যাদের বয়স ৭০ থেকে ৭৯ বছর।

নিঃসঙ্গতা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতাসহ বিভিন্ন কারণে উন্নত দেশের বয়স্ক লোকজন নানা ধরনের মানসিক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এবং বয়স্কদের কোনো কোনো আত্মহত্যার খবর প্রায়ই এসব দেশে গভীর বেদনা সৃষ্টি করে।
সিঙ্গাপুরে ২০১৭ সালে আত্মহত্যার ৩৬ ভাগ ঘটে ৬০ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়স্কদের ক্ষেত্রে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৬ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী গড় আয়ুর দিক দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সুইজারল্যান্ড ৮৩ দশমিক ৪, তৃতীয় সিঙ্গাপুর ৮৩ দশমিক ১, চতুর্থ অস্ট্রেলিয়া ও স্পেন ৮২ দশমিক ৮। এরপরের দেশগুলো হলো আইসল্যান্ড ৮২ দশমিক ৭, ইতালি ৮২ দশমিক ৭, ইসরাইল ৮২ দশমিক ৫, সুইডেন ও ফ্রান্স ৮২ দশমিক ৪ ও দক্ষিণ কোরিয়া ৮২ দশমিক ৩।

আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, মরক্কো, মিসর ছাড়া আফ্রিকার বেশির ভাগ দেশের মানুষের গড় আয়ু ৬৫-এর নিচে। এ মহাদেশের অনেক দেশের মানুষের গড় আয়ু ৫০ এর সামান্য বেশি। বিশ্বের সবচেয়ে কম গড় আয়ু আফ্রিকার সিয়েরালিওনে ৫০ দশমিক ১।
বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭১ দশমিক ৮। বিশ্বব্যাপী মানুষের গড় আয়ু ২০১০ থেকে ২০১৫ সালে ছিল ৭১ বছর। এটা ২০৪৫ থেকে ২০৫০ সালে ৭৭ পর্যন্ত পৌঁছবে।

শতকরা হিসাবে সবচেয়ে বেশি বয়স্ক মানুষ রয়েছে জাপানে। জাপানের জনসংখ্যার ২৬ দশমিক ৩ ভাগের বয়স ৬৫ বছর বা তার চেয়ে বেশি। ২০৩০ সালে এটা ৩২ ভাগ হবে। জাপানে বর্তমানে প্রতি চারজনে একজনের বয়স ৬৫ বা তার চেয়ে বেশি। শতকরা হিসাবে বয়স্ক মানুষের সংখ্যার দিক দিয়ে এর পরের দেশগুলো হলো ইতালি ২২ ভাগ, গ্রিস ও জার্মানি ২১ ভাগ করে, পর্তুগাল, ফিনল্যান্ড ও বুলগেরিয়া ২০ ভাগ করে, সুইডেন, লাটভিয়া ও মাল্টা ২০ ভাগ করে, ফ্রান্স এবং ডেনমার্ক ১৯ ভাগ করে, ক্রোয়েশিয়া, এস্তোনিয়া, লিথুনিয়া, স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র, স্লোভেনিয়া ও সুইজারল্যান্ডে ১৮ ভাগ করে বয়স্ক মানুষ রয়েছে মোট জনসংখ্যার। যুক্তরাজ্য ও রোমানিয়ায় রয়েছে ১৭ ভাগ।

জাতিসঙ্ঘের জনসংখ্যা তহবিলের ২০১৭ সালের তথ্য অনুসারে সারা বিশ্বে ৬০ অথবা তার চেয়ে বেশি মানুষের সংখ্যা হলো ৯৬ কোটি ২০ লাখ। এটা মোট জনসংখ্যার ১৩ ভাগ। ৬০ অথবা তার চেয়ে বেশি বয়স্ক মানুষের সংখ্যা প্রতি বছর ৩ শতাংশ হারে বাড়ছে। বর্তমানে এ বয়সী মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি রয়েছে ইউরোপে তথা ২৫ ভাগ। এটা দ্রুত অন্যান্য মহাদেশেও বাড়বে। আফ্রিকা মহাদেশ ছাড়া সারা বিশ্বে আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে ৬০ অথবা তার চেয়ে বেশি মানুষের সংখ্যা হবে ২৫ ভাগ। আর ইউরোপে ২০৫০ সালের মধ্যে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৫ ভাগে।
বয়স্ক মানুষের সংখ্যা ২০৩০ সালের মধ্যে ১৪০ কোটি এবং ২০৫০ সালে ২১০ কোটি হবে।

ল্যাটিন আমেরিকায় এবং এশিয়ায় বর্তমানে বয়স্ক মানষের সংখ্যা শতকরা ১২ ভাগ। ২০৫০ সালের মধ্যে এটা ল্যাটিন আমেরিকায় ২৫ ভাগ এবং এশিয়ায় ২৪ ভাগ পর্যন্ত বাড়বে।

উত্তর আমেরিকায় বর্তমানে ২২ ভাগ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে ২৮ ভাগ পর্যন্ত বাড়বে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা।
বয়স্ক মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে কম আফ্রিকা মহাদেশে মাত্র ৫ ভাগ। ২০৫০ সালে এটা ৯ ভাগ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

জাতিসঙ্ঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে কম বয়সী মানুষ সবচেয়ে বেশি রয়েছে আফ্রিকা মহাদেশে। এ মহাদেশে ৬০ ভাগ মানুষের বয়স ২৫ বছরের নিচে । ৪১ ভাগ মানুষের বয়স ১৫ বছরের নিচে। আফ্রিকা মহাদেশে বয়স্ক মানুষ কম থাকার পেছনে রয়েছে এইডস এবং বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে মৃত্যু।

ল্যাটিন আমেরিকায় ২৫ ভাগ মানুষের বয়স ১৫ বছরের নিচে এবং এশিয়ায় ২৪ ভাগ মানুষের বয়স ১৫ বছরের নিচে।
বর্তমানে বিশ্বে ৮০ বছর অথবা তার চেয়ে বেশি বয়স্ক মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৪ কোটি। ২০৫০ সালের এটা তিনগুণ বেড়ে ৪২ কোটি ৫০ লাখে পৌঁছবে। বর্তমানে ৮০ বছর অথবা তার চেয়ে বেশি বয়স্ক মানুষের সংখ্যা শতকরা ১ ভাগ। বর্তমানে একমাত্র সুইডেনে ৮০ বছর বা তার বেশি বয়স্ক মানুষের সংখ্যা শতকরা ৫ ভাগ।

৬০ বছর অথবা তার চেয়ে বেশি বয়স্ক মানুষের সংখ্যা ১৯৫০ সালে ছিল প্রতি ১৫ জনে ১ জন, ২০০০ সালে ৯ জনে ১ জন এবং ২০৫০ সালে এটা প্রতি ৫ জনে ১ জন হবে।

জাতিসঙ্ঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ৬০ অথবা তার চেয়ে বেশি বয়স্কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অন্যের ওপর নির্ভরশীল বা পরিবারের সাথে জীবনযাপন করে আফগানিস্তানে। আফগানিস্তানের ৯৩ ভাগ বয়স্ক লোক অন্যের ওপর নির্ভরশীল বা পরিবারের সাথে বাস করেন। আর বয়স্কদের মধ্যে সবচেয়ে কম নির্ভরশীল এবং একাকী জীবন যাপন করেন নেদারল্যান্ডে।

সেখানে মাত্র ২ দশমিক ৩ ভাগ বয়স্ক অন্যের ওপর নির্ভরশীল। বাকিরা সাবলম্বী এবং একাকী জীবন যাপন করেন। তবে পুরুষের তুলনায় বয়স্ক নারীরা বেশি একাকিত্বে ভোগেন। আফ্রিকা এবং ইউরোপে পুরুষের দ্বিগুণ নারী একাকী জীবন যাপন করেন। ১৪৩টি দেশের তথ্যের আলোকে ২০১৭ সালে জাতিসঙ্ঘের প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
আরও ৫ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায়

আরও ৫ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায়

ফাইল ছবি
স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ এখনও থামেনি। সদ্য প্রবেশকারীদের দাবি, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সে দেশের সেনারা এখনও নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। যারা এখনও সেখানে আছে তাদের ‘ক্রীতদাস’ বানিয়ে রাখা হয়েছে। নির্যাতন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার অপেক্ষায় আছে রাখাইনের বাকি রোহিঙ্গা সদস্যরা।

রোহিঙ্গাদের প্রবেশের চেষ্টা অব্যাহত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের একাধিক ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতারা। তারা জানিয়েছেন,‘নিপীড়নের হাত থেকে বাঁচতে আরও প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসার অপেক্ষায় আছে। প্রায় প্রতি রাতে কেউ না কেউ ওপার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। তাদের অধিকাংশই নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসছেন। তিনশ’ রোহিঙ্গা ওপারের সীমান্তের বন-জঙ্গলে প্রবেশ করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার অপেক্ষা করছে বলে খবর পেয়েছেন তারা।’

টেকনাফ লেদা রোহিঙ্গা শিবিরের চেয়ারম্যান আবদুল মতলব জানান, ‘রাখাইনের যেসব রোহিঙ্গা এখনও বাংলাদেশে আসতে পারেনি, তাদের আসলে আটকে রাখা হয়েছে। সেনারা তাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে; স্থানীয় হাটবাজারেও তাদের যেতে দেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে খাবারের সঙ্কটে রয়েছে রোহিঙ্গা সদস্যরা। মানবেতর জীবনযাপনে তাদের বাধ্য করা হচ্ছে। এ কারণে সুযোগ পেলেই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি সদ্য প্রবেশকারীদের বরাত দিয়ে আরও বলেন, ‘সেখানে সেনারা বড় আকারে জুলুম না করলেও ভেতরে ভেতরে কৌশলগত জুলুম চালিয়ে যাচ্ছে। রাখাইনের রাজধানী শিত্তুই বা আকিয়াব, রাথিডং, মংডুসহ পুরো রাজ্যের ১৭টি ‘টাউনশিপে’ পাঁচ লাখের মতো রোহিঙ্গা আছে। সেখানকার রোহিঙ্গা সদস্যরা যে-হারে খণ্ডখণ্ডভাবে অনুপ্রবেশ করছে, তাতে একদিন সবাই এপারে চলে আসবে।’

জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) দেওয়া তথ্য মতে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার ৭৬৪ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৫ দিনে নাফনদী পেরিয়ে ৫৩১ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। এর মধ্যে আগস্টে এসেছেন ২৫৬ জন এবং জুলাইয়ে ৪১৩ জন। এরআগে ২০ মে থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে নতুন আসা তিন হাজার রোহিঙ্গার সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব প্রবেশকারীরা বেশির ভাগই টেকনাফের সাবরাং ও এর আশপাশের এলাকা থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।

তবে রোহিঙ্গা প্রবেশ ঠেকাতে জিরো টলারেন্সে রয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গারা এখনও নৌকা নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ চলতি বছরের ১৩ আগস্ট একটি নৌকায় করে ১২ জন রোহিঙ্গা সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এসময় বিজিবি টহল দলের সদস্যরা তাদের বাধা দেয়। এছাড়া সেপ্টেম্বর মাসের গত শুক্রবার নাফনদী পেরিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের সময় সাত রোহিঙ্গাবাহী একটি নৌকা ‘পুশব্যাক’ করা হয়েছে।’তবে ‘একই দিন আরও দুটি নৌকায় করে প্রায় ১২ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে’ বলে দাবি করেছে সীমান্তের বসবাসকারীরা।

এ প্রসঙ্গে বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) টেকনাফ-২ ব্যাটেলিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার বলেন,‘রোহিঙ্গারা এখনও প্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সীমান্তে প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। কোনও অবৈধ প্রবেশকারীকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’ গত সপ্তাহে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন খাদিজাতুল কোবরা (২৬)। তার বাড়ি মিয়ানমারের বুশিডং (বুথিডং) এলাকার বড়িয়ং গ্রামে। বর্তমানে তিনি কক্সবাজারের টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। খাদিজা বলেন, ‘‘মিয়ানমার সেনারা নারীদের মারধর করে, স্বামীদের ধরে নিয়ে তাদের ‘ক্রীতদাস’র মতো ব্যবহার করছে। রাতে সেনাদের প্রহরী এবং দিনে গৃহকর্মীর কাজ করাচ্ছে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পরিবার নিয়ে এপারে পালিয়ে এসেছি।’’ গত পাঁচ দিন আগে মেয়ের কানের দুল বিক্রির পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে বাংলাদেশে পাড়ি দেন আবুল হাইর। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার সেনারা যাতে না দেখে, সে জন্য ঘর থেকে চুরি করে বের হয়ে সীমান্তে পৌঁছি। সেখানে দেখে মেলে আমাদের মতো অভাগা আরও দুই পরিবারের। তিন পরিবারের মোট ১২ জন উনচিপ্রাংয়ের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করি।’

তিনি জানান, তার গ্রামে আটশ’র উপরে ঘর ছিল। তারা চলে আসার পর বর্তমানে সেখানে পাঁচ ঘর রোহিঙ্গা বসবাস করছে। সেখানে যেসব রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যরা রয়েছেন তাদের ওপর সেনারা সুকৌশলে নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি হুমকি-ধমকি দিয়ে রোহিঙ্গা নারী ও পুরুষদের দিয়ে তাদের বিভিন্ন কাজ করিয়ে নিচ্ছে। এছাড়া সেনারা রোহিঙ্গা সদস্যদের ঠিকমতো ঘর থেকে বের হতে দেয় না, এক প্রকার জিম্মি করে রেখেছে। ফলে সেখানকার রোহিঙ্গা পরিবারগুলো সুযোগ পেলেই বাংলাদেশে চলে আসছে।’
এসব প্রবেশের বিষয়ে টেকনাফ পৌরসভার (ভারপ্রাপ্ত) মেয়র আবদুল্লাহ মনির বলেন, ‘এপারে চলে আসা অনেক রোহিঙ্গা সদস্যরা ওপারের আত্মীয়-স্বজনদের খবর পাঠাচ্ছে যে, আমরা ভাল আছি, তোমরাও চলে আসো। এ কারণেও প্রবেশের চেষ্টা চলছে।’

রোহিঙ্গাদের প্রবেশ চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রবিউল হাসানও। তবে তিনি বলেন, ‘নতুন করে কোনও রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। সীমান্তে কড়া নজরদারি রয়েছে, কেউ প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে ফেরত পাঠানো হবে।’
আ.লীগ বাদ দিয়ে বাংলাদেশে কোনো জাতীয় ঐক্য হবে নাঃ কাদের

আ.লীগ বাদ দিয়ে বাংলাদেশে কোনো জাতীয় ঐক্য হবে নাঃ কাদের


স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ আওয়ামী লীগের মতো জনপ্রিয় দলকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশে কোনো জাতীয় ঐক্য হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শনিবার বিকেলে ফেনী শহরের ট্রাংক রোডের শহীদ মিনার চত্বরে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় একটি আন্তর্জাতিক সমীক্ষার হিসাব দিয়ে ওবায়দুল কাদের এ মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আন্তর্জাতিক সমীক্ষা বলছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা ৬৬ ভাগ, আর আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা ৬৪ ভাগ। আওয়ামী লীগের মতো জনপ্রিয় দলকে বাদ দিয়ে দেশে কোনো জাতীয় ঐক্য হবে না। তারা (ড. কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ও এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর যুক্তফ্রন্ট) যে ঐক্য করতে চায়, সেই ঐক্য হবে জাতীয়তাবাদী ও সাম্প্রদায়িক ঐক্য। এই ঐক্য দেশের মানুষ মেনে নেবে না। তিনি বলেন, ঢাকার মহানগর নাট্যমঞ্চে ৩০ দলের সভায় সাত-আট শ লোকেরও জমায়েত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী তাদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যান খুলে দেওয়া হবে।’ অথচ তারা সেখানে যায় না।

বিএনপিকে উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দাওয়াত না পেয়েও তাঁরা ভুয়া দাওয়াতের কথা প্রচার করে জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে গিয়ে নালিশ করেছেন। লন্ডনে ও ব্যাংককে সভা করেন। তাঁরা প্রতারক ও মিথ্যাচারের দল। বিএনপি ১০ বছরে ১০ মিনিটের জন্যও আন্দোলন করতে মাঠে নামতে পারেনি।’ ‘দেখতে দেখতে ১০ বছর, মানুষ বাঁচে কয় বছর, আন্দোলন হবে কোন বছর’ প্রশ্ন করে ফেনীতে জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে যে জনসভা হয়েছে, তারা (বিএনপি) এ রকম একটি জনসভা ঢাকায় করে দেখাক। কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করে কোনো লাভ হবে না। বিএনপি নিজেরা আন্দোলন করতে না পেরে কখনো হেফাজতে ইসলামের ওপর, কখনো ছাত্রদের ওপর ভর করে আন্দোলনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। এখন তারা দেশে-বিদেশে নালিশ করে বেড়াচ্ছে।

আওয়ামী লীগের বিগত সময়ের সাফল্য তুলে ধরে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে নারী ও তরুণসমাজ পাঁচ কোটি ভোটার হবে আওয়ামী লীগের শক্তি। আওয়ামী লীগের অবদানে এখন দেশে বিদ্যুতের লোডশেডিং নেই বললেই চলে। ১৬ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে ১৪ কোটি মানুষের হাতে মোবাইল ফোন। ১০ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। গ্রামের মানুষ ঘরে বসে প্রবাসীদের সঙ্গে ছবি দেখে (ভিডিও কল) এখন কথা বলতে পারে।

দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নিজেদের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা করবেন না। যিনি বেশি জনপ্রিয়, তিনি দলের মনোনয়ন পাবেন। এখন থেকে ভোটকেন্দ্র কমিটি ও কেন্দ্র রক্ষা কমিটি করতে হবে।’ সব শেষে তিনি দেশে গণতন্ত্র রক্ষা ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য সবার নিকট আহ্বান জানান।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শুনেস চন্দ্র শীল ও শহীদ খোন্দকারের যৌথ সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী, সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ জাহানারা বেগম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজ আহম্মদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সাইফুদ্দিন নাছির, জহির উদ্দিন মাহমুদ, ফেনী পৌরসভার মেয়র আলাউদ্দিন, ফেনী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি করিম উল্যাহ, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সালাউদ্দিন ফিরোজ।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জেলা সফরের অংশ হিসেবে শনিবার কুমিল্লা থেকে ওবায়দুল কাদের কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তিনি কুমিল্লা, ফেনী ও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বক্তব্য দেন। আগামীকাল রোববার লোহাগাড়া ও কক্সবাজারে পথসভার মধ্য দিয়ে দুই দিনের কর্মসূচি শেষ হবে।
আজ লন্ডন থেকে নিউইয়র্কে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

আজ লন্ডন থেকে নিউইয়র্কে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ছবি
স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ জাতিসংঘের ৭৩তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে আজ লন্ডন থেকে নিউইয়র্কে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন। খবর বাসস'র।

এর আগে শুক্রবার নিউইয়র্কের পথে যাত্রা করে লন্ডন পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবারের দিনটি লন্ডনে কাটিয়েছেন তিনি। শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইটটি লন্ডনের স্থানীয় সময় শুক্রবার বেলা ৩টা ৫০ মিনিটে হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণ করে। যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাজমুল কাওনাইন বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান।

এর আগে শুক্রবার সকাল ১০টা ২৩ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। ১০ দিনের এ সফরে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেয়ার পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে।