Previous
Next

সর্বশেষ

22 July 2019

মুশরিকদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ বাংলাদেশঃ মার্কিন প্রতিবেদন

মুশরিকদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ বাংলাদেশঃ মার্কিন প্রতিবেদন

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরছবি: ইউএস অ্যামবাসির ওয়েবসাইট
স্টাফ রিপোর্টার প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে যে, ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিতে চললেও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের পরিপূর্ণ সুরক্ষা দিতে পারেনি বাংলাদেশ। তাদের উচ্ছেদ ও দখল হয়ে যাওয়া জমি ফেরত দিতে দিতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। মুশরিক হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজনের বাড়িতেও আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে।

পাঠ্যপুস্তকে ঐতিহ্যগত ধর্মনিরপেক্ষতার বিষয়গুলোয় তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাঠ্যপুস্তক থেকে অমুসলিম লেখকদের লেখা সরিয়ে ধর্মের সঙ্গে সম্পর্ক নেই এমন সব বিষয়েও ধর্মীয় উপাদান যুক্ত করা হয়েছে।

২০১৭ সালে বাংলাদেশ-সহ প্রায় ২০০টি দেশের ধর্মীয় স্বাধীনতা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

বুধবার ঢাকাস্থ আমেরিকান সেন্টারের একটি বিবৃতিতে বলা হয়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, যেমনঃ হিন্দু, বৌদ্ধ, ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষদের উচ্ছেদ ও তাদের জমি দখল হয়ে যাওয়ার বিষয়ে কার্যকর সুরক্ষা দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

গত বছর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন, বিশেষ করে বৌদ্ধ ও হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। জুন মাসে দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে চাকমাদের ৩০০ বাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। ওই সময় ৭০ বছর বয়সী এক নারী হামলায় নিহত হন। একজন মুসলিম ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনা থেকে আগুন-সহিংসতার সূত্রপাত ঘটে। ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর পোস্ট দেয়ার অভিযোগে দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা রংপুরে হিন্দুদের ৩০টি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়।

এতে বলা হয় হয়, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বাংলা পাঠ্যপুস্তক থেকে দেশটির ঐতিহ্যগত ধর্মনিরপেক্ষতার বিষয়গুলোতে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। যেমন অমুসলিম লেখকদের লেখা সরিয়ে নেয়া হয়েছে এবং ধর্মের সঙ্গে সম্পর্ক নেই এমন সব বিষয়েও ধর্মীয় উপাদান যুক্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলা হয়েছে, দেশটির সংবিধানে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে উল্লেখ করা হলেও দেশটি ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিতে চলে। ধর্মীয় বৈষম্য নিষিদ্ধ করে সব ধর্মের জন্য সমতার কথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ধর্মীয় সহিষ্ণুতার ওপর জোর দিয়ে মার্কিন দূতাবাস বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা, বিশিষ্ট নাগরিক, বেসরকারি সংস্থা ও ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দূতাবাসের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা দেয়া হয়েছে।


ঢাকাস্থ আমেরিকান সেন্টারের বিবৃতি পাবেন (এখানে) Bangladesh 2017 International Religious FreedomReport
প্রসাদ ও হরে কৃষ্ণ ইস্যুতে চট্টগ্রামের মুসলিমদেরই মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি প্রাপ্যঃ দস্তার রাজদরবার

প্রসাদ ও হরে কৃষ্ণ ইস্যুতে চট্টগ্রামের মুসলিমদেরই মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি প্রাপ্যঃ দস্তার রাজদরবার


দস্তার রাজদরবার॥ গতো ১৭ তারিখে আমার অফিশিয়াল পেইজ উগ্রপন্থী হিন্দুদের রিপোর্টে ফেসবুক কতৃপক্ষ ডিলিট করে দেয়। কারণ হিসেবে তারা আমার একটি ভিডিও পোষ্ট কে উল্লেখ করে, ভিডিওটি দেখতে এই নিউজটায় যেতে পারেন (ভারত নয় খোদ বাংলাদেশে মুসলিম শিশুদের শিরকী প্রসাদ খাইয়ে 'জয় শ্রী রাম' বলানো হচ্ছে)। ঘটনা কেবল চট্রগ্রামেই নয় সারা দেশ ভাইরাল হলেও মুসলিম সমাজে এর উল্লেখযোগ্য তেমন কোন ভূমিকাই দেখা যায়নি। এতএব বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, ইসকনের উগ্রপন্থী হিন্দুরা নয়, বরং চট্টগ্রামের মুসলমানরাই দায়ী এবং। উগ্রপন্থী ইসকনী হিন্দু কতৃক মুসলমানদের প্রসাদ খাওয়ানো ও কোমলমতি শিশুদের দিয়ে স্কুলে হরে কৃষ্ণ বলানোর প্রেক্ষিতে চট্টগ্রামের মুসলমানদেরই তাহলে মুরতাদের বিধান অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি প্রাপ্য যেমনটি প্রিয়া সাহাদের উত্থানের পেছনে দায়ী হচ্ছে আওয়ামী লীগ নিজেই। ট্রাম্পের অফিসে যাওয়ার সাধ্য এই নমশূদ্র কাজের বেটির হতো না, যদি না তার স্বামীকে সরকার দুদকে উচ্চপদে বসাত, তার ও তার ফ্যামিলিকে সুবিধাপ্রাপ্তদের অন্তর্ভূক্ত করত।

ঠিক সেভাবেই চট্টগ্রামে যা হয়েছে, তার পেছনে পুরো দায় সেখানকার মুসলমানদের। একটি নিউজে পড়লামঃ-

হিন্দুদের সংগঠন 'ইসকন' চট্টগ্রামে যা করেছে তার বিপরীতে প্রথম রিএকশানটা দেখানো উচিত ছিল অভিভাবকদের। যেসব স্কুলে তারা পূজার প্রসাদ খাইয়েছে এবং ছোট ছোট বাচ্চাদের হিন্দুদের ধর্মীয় স্লোগান দেওয়ানো হয়েছে এসব স্কুলকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত ছিল অভিভাবকদের। এরকম কিছু চোখে পড়েনি। কারণ আমাদের অভিভাবকরা এসব নিয়ে আসলে মাথা ঘামায় না, তার উপর অনেকের কাছেই ইসকনের এই কাজটা নিতান্ত 'ভালো কাজ' বলে মনে হবে। আর এই সচেতনতার অভাবটা তৈরি করেছে আমাদের আলেমরা। আচ্ছা আজকে চট্টগ্রামের কয়টা মসজিদে এই ইশ্যুতে খুতবা দেওয়া হয়েছে? মানুষকে সচেতন করা হয়েছে? হেজাফত ইসলাম বিক্ষোভ মিছিল করেছে, কিন্তু এতে কি আসলে মানুষের মাঝে সচেতনতা এসেছে? মানুষ এ বিক্ষোভ মিছিলকে "হেফাজতের মিছিল" হিসেবে নিয়েছে, নিজেদের হিসেবে নেয়নি।” (পুরোটা পড়ুন)

এ কারণেই ঘটনার কিছু সময় পরেই লাল সুতা পরা হিন্দু ছাত্রীর হাতে কেক খাওয়া হেডমাস্টার আশরাফুল আলম ইসকনের প্রসাদ বিতরণের পক্ষে সাফাই গেয়ে স্ট্যাটাস দেয়, যে স্ট্যাটাস ভাইরাল করে দিয়েছে হিন্দুরা। এই হেডমাস্টারের তো চাকরি চলে যাওয়া উচিত, যে সে কেন ইসকনকে মুসলমান ছাত্রদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণের অনুমতি দিল। কিন্তু সে জানে যে তার কিছুই হবে না, কারণ চট্টগ্রামের তাবৎ মুসলমান নামধারী অভিভাবকেরা তার পক্ষে। (ছবি দেখুন)

উল্লেখ্য, ইসকন ফুড ফর লাইফ পেজটি থেকে ঐ হরে কৃষ্ণ বলানোর ভিডিও ছাড়াও আরও দুটি ভিডিও ছাড়া হয়েছিল। নিচের ভিডিওর শেষেরদিকে হিজাব পরা এক শিক্ষিকার সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে, সেখানে সে বলে যে ইসকন এই প্রসাদ বিতরণ করে খুব ভালো কাজ করেছে, তারা যেন পরের বছরগুলোতেও এমনটি করে। (দেখুন)



এখন শিক্ষিকা তো বলবেই যে প্রসাদ বিতরণ করে খুব ভালো হয়েছে, কারণ তার স্কুলের মুসলমান নামধারী অভিভাবকেরাই কাজটিকে নিতান্ত ভালোবলে মনে করে।

এখন মানুষ যতোই আওয়ামী লীগকে গালি দিক না কেন প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে মামলা খারিজ করে দেয়ার জন্য, তারা তো সেই শাসকই লাভ করবে যা তাদের জন্য উপযুক্ত। ইসকন চট্টগ্রামে মুসলমান সন্তানদের হরে কৃষ্ণ বলালো, চট্টগ্রামে ইসকনের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়েছে কী? কেউ গ্রেফতার হয়েছে কী? সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কী? কিছুই হয়নি। একটি মামলা হয়েছে তাও ঢাকার হাইকোর্টে, চট্টগ্রামের জনজীবনে তা কোনো প্রভাবই ফেলেনি। জুমুয়ার খুতবায় তা নিয়ে কিছুই আলোচনা হয়নি, এমনকি হেফাজতের মিছিলকেও চট্টগ্রামবাসী নিজেদের প্রতিবাদ হিসেবে নেয়নি।

এমতাবস্থায় শরীয়তের ফয়সালা অনুযায়ী চট্টগ্রামবাসীর উপর মুরতাদের ফতওয়া বর্তায় এবং তাদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। আগে তাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এরপর চট্টগ্রামের উগ্র হিন্দুদের মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে।

উল্লেখ্য, আমরা জানি যে বাংলাদেশ থেকে যে এলাকাটি আমেরিকা-ভারত আলাদা করে হিন্দু-বৌদ্ধ-উপজাতিদের আলাদা রাষ্ট্র করতে চায়, তা হলো চট্টগ্রাম। আর এই পরিণতি তরান্বিত হচ্ছে চট্টগ্রামের মুসলমানদের এই অতি হিন্দুপ্রীতির কারণে। যদি দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় চট্টগ্রামের হিন্দু-উপজাতিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতেও হয়, চট্টগ্রামের এই মুনাফিক জনগোষ্ঠীই সবচেয়ে বেশি বাধার সৃষ্টি করবে, যেমনটি গাযওয়াতুল হিন্দে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে আবির্ভূত হবে ভারতের হিন্দুপ্রেমিক মুসলমান জনগণ।

সুতরাং প্রথমে চট্টগ্রামের মুরতাদ বনে যাওয়া মুসলমানদের ফাঁসি দেয়া হোক, এরপর চট্টগ্রামের উগ্র হিন্দুদের ফাঁসি দেয়া হোক। দ্বীন ইসলামের হুরমত-সম্মান ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখতেই তা করা হোক।

21 July 2019

'ইসকন' কতৃক মুসলিম ছাত্রছাত্রীদের করানো শিরকের বিপরীতে অভিভাবকদের নিস্কৃয়তা কেনো?

'ইসকন' কতৃক মুসলিম ছাত্রছাত্রীদের করানো শিরকের বিপরীতে অভিভাবকদের নিস্কৃয়তা কেনো?


আদিল উমার হিন্দুদের সংগঠন 'ইসকন' চট্টগ্রামে যা করেছে তার বিপরীতে প্রথম রিএকশানটা দেখানো উচিত ছিল অভিভাবকদের। যেসব স্কুলে তারা পূজার প্রসাদ খাইয়েছে এবং ছোট ছোট বাচ্চাদের হিন্দুদের ধর্মীয় স্লোগান দেওয়ানো হয়েছে এসব স্কুলকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত ছিল অভিভাবকদের। এরকম কিছু চোখে পড়েনি। কারণ আমাদের অভিভাবকরা এসব নিয়ে আসলে মাথা ঘামায় না, তার উপর অনেকের কাছেই ইসকনের এই কাজটা নিতান্ত 'ভালো কাজ' বলে মনে হবে। আর এই সচেতনতার অভাবটা তৈরি করেছে আমাদের আলেমরা। আচ্ছা আজকে চট্টগ্রামের কয়টা মসজিদে এই ইশ্যুতে খুতবা দেওয়া হয়েছে? মানুষকে সচেতন করা হয়েছে? হেজাফত ইসলাম বিক্ষোভ মিছিল করেছে, কিন্তু এতে কি আসলে মানুষের মাঝে সচেতনতা এসেছে? মানুষ এ বিক্ষোভ মিছিলকে "হেফাজতের মিছিল" হিসেবে নিয়েছে, নিজেদের হিসেবে নেয়নি।

কিছু একটা হলেই মুসলিমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, ৯০% মুসলিমের দেশে এরা এই সাহস কি করে পায়...? ইত্যাদি ইত্যাদি কিছু গৎবাঁধা রিএকশান দেখাতে আমরা অভ্যস্ত। এতে আমাদের গলা উঁচু হয়, কিন্তু যে মেসেজটা আসলে দেওয়া উচিত ছিল, সেটা মানুষের কাছে পৌঁছায় না। যেমন ইসকনের এই কাজটাতে আমাদের মুসলিমদের পক্ষ থেকে আপত্তিটা কি, সেটা ভালোভাবে উপস্থাপন করা জরুরী। এটা নিতান্তই খাবার বিতরণ ছিল না। তারা নিজেদের ধর্মীয় উৎসবের প্রসাদ মুসলিম ম্যাজরিটির মাঝে বিতরণ করছে, ছোট ছোট বাচ্চাদের এই প্রসাদ বিতরণের সময় ধর্মীয় স্লোগান দেওয়ানো হয়েছে, এই পয়েন্টগুলো স্পষ্ট করতে হবে।

স্থানীয় পরিচিত আলেমদের একটি দল হিন্দুদের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তি, সংগঠনের সাথে বসতে পারত। তাদেরকে এই মেসেজটা বুঝিয়ে দিতে পারত, আমরা মুসলিমরা এই কাজের বিরোধীতা করছি, কেন করছি। আমরা যদি এখন কুরবানির মাংস নিয়ে তাঁদের মন্দিরে নিয়ে, কিংবা বিভিন্ন হিন্দু পাড়ায় ফ্রি খাওয়াই, 'আল্লাহু আকবর' বলতে বলি, তাদের তখন কেমন লাগবে? এটা কি উচিত হবে কি না?

একইভাবে স্কুল কতৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন যারা ইসকনকে এসব কাজের অনুমতি দিয়েছে, তাদের সাথেও বসা যায়। তাদেরকে বুঝিয়ে দেওয়া যে এধরণের কাজ সাম্প্রদায়িক উসকানি তৈরি করবে, কীভাবে করবে। মুসলিমরা যদি এখন স্কুলে স্কুলে এভাবে ফ্রি খাবার বিতরণ করে আর ইসলামি বিভিন্ন স্লোগান দেওয়ায়, সেটা স্কুল কতৃপক্ষ বা প্রশাসন অনুমতি দিবে কি না!

সচেতনতা তৈরি, দাওয়াতের বক্তব্য, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এটা ইসলামের শিক্ষা। এতে ঘটনার প্রতিকার চাওয়ার আগে, মানুষ আগেই এর প্রতরোধ করতে শিখবে। মানুষের মাঝে যে বিষয়ের সচেতনতা তৈরি করা হয়নি, সে বিষয়ের বিক্ষোভ তারা সহজভাবে নেবে না, উল্টো ভুল বুঝবে। ইসলামের শত্রুরা এই সুযোগটাকেই ব্যবহার করে।
 ভারতে ডাইনি অপবাদে গণপিটুনিতে দম্পতি-সহ ৪ জন খুন

ভারতে ডাইনি অপবাদে গণপিটুনিতে দম্পতি-সহ ৪ জন খুন


আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ কখনও গো-রক্ষার নামে, কখনও চুরি বা শিশু চুরির অপবাদ দিয়ে গণপিটুনির ঘটনা ঘটেই চলেছে। বিহারে তিন জনকে পিটিয়ে মারার পর ২৪ ঘণ্টাও কাটল না। এবার ঝাড়খণ্ডের এক দম্পতি-সহ চারজন আদিবাসীকে পিটিয়ে, গলা কেটে খুন করল গ্রামবাসীরা। এ বার ডাইনি অপবাদে। নিহতদের মধ্যে দু’জন পুরুষ ও দু’জন মহিলা। শনিবার ভোর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়খণ্ডের গুমলার সিয়াসি থানা এলাকায়। খবর পেয়েই গ্রামে গিয়ে পুলিশ সরেজমিন খতিয়ে দেখেছে পরিস্থিতি। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশের কর্তারা। গুমলার জেলাশাসক অঞ্জনীকুমার ঝা বলেন, ‘‘কুসংস্কারের জন্যই এই ঘটনা ঘটেছে।’’

তবে নিহতদের নাম নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি রয়েছে। একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত দম্পতির নাম চম্পা উরভ এবং পিরা উরভ। অন্য সূত্রে দাবি, নিহত দম্পতি চম্পা ভগত (৬৫) এবং পেটি ভগত (৬০)। নিহত বাকি দুই গ্রামবাসী ভগত (৬৫) এবং ফাগনি দেবী (৬০)। চারটি মৃতদেহই উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, বাঁশ-লাঠি-লোহার রড দিয়েবেধড়ক পেটানো এবং তার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে খুন করা হয়েছে চার জনকে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার ভোর সাড়ে তিনটে থেকে চারটের মধ্যে ১০-১২ জন গ্রামবাসী ওই দম্পতির বাড়িতে চড়াও হয়। তারা প্রথমে ওই দম্পতিকে ঘর থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে একটি ঘরে নিয়ে যায়। সেই ঘরেই কিছুক্ষণের মধ্যেই নিয়ে যাওয়া হয় ভগত এবং ফাগনি দেবীকে। ডাইনি অপবাদে শুরু হয় বাঁশ-লাঠি দিয়ে বেধড়ক মার। সঙ্গে চলতে থাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ। মারের চোটে এক সময় প্রতিরোধের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন চার জনই। তখন সবাইকেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে খুন করে পালিয়ে যায় আক্রমণকারীরা।

গুমলার পুলিশ সুপার অঞ্জনীকুমার ঝা বলেন, ‘‘প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, ডাইনি অপবাদেই চার জনকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। অন্ধ বিশ্বাসের কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত চলছে।’’ পুলিশ-প্রশাসনের কর্তারা গ্রামে গিয়ে বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলেও এখনও আতঙ্কে রয়েছেন গ্রামবাসীরা। বিশেষ করে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে।


এই ঘটনার আগের দিন অর্থাৎ শুক্রবার ভোর রাতেই বিহারের সারন জেলার বানিয়াপুর গ্রামে গরু চোর সন্দেহে তিন জনকে পিটিয়ে মারে দুষ্কৃতীরা। সেই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় হয় গোটা দেশে। গত ২২ জুন আবার ঝাড়খণ্ডেরই সরাইকেলায় জয় শ্রীরাম না বলায় এক যুবককে পিটিয়ে মারার অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। পর পর এ ভাবে গণপিটুনির ঘটনা ঘটলেও তা রুখতে না পারায় স্বাভাবিক ভাবেই পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে কোন মামলা গ্রহন না করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীরঃ জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে কোন মামলা গ্রহন না করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীরঃ জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের


স্টাফ রিপোর্টার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের কঠিত সংখ্যালঘু নির্যাতন নামক প্রোপাগান্ডার পরিস্থিতি নিয়ে নালিশ করা প্রিয়া সাহাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া শুরু না করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রোববার দুপুরে একথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

এর আগে রোববার সকালে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার দুটি মামলা করা হয়েছে।

ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি মামলা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইয়েদুল হক সুমন। আর অপর মামলাটি করেছেন ঢাকা বারের আইনজীবী সমিতির বর্তমান কার্যকরী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মুহম্মদ ইব্রাহিম খলিল।

এ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রিয়া সাহা কেন এমন কাজ করেছেন এ বিষয়ে তার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকা উচিত। আপাতত তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার দরকার নাই।

জনগণকে যানজট থেকে স্বস্তি দিতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, বড় বড় প্রজেক্টের কারণে কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দুর্ভোগ সহনীয় করার চেষ্টা চলছে। প্রজেক্ট শেষ হলে স্বস্তি মিলবে।

এ সময় ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ম্যাস রেপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-৬ এর উদ্বোধন করা হবে বলেও জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।