08 September 2016

সিলেটে ইসকন বিরোধী স্ট্যাটাস দেওয়ার পর খুন হয়েছেন ওসমানীনগর মসজিদের খতিব

ছবিঃ নিহত আব্দুর রহমান ও তার ফেসবুক স্ট্যাটাস
সিলেট প্রতিনিধি॥ সিলেটের ওসমানী-নগরে মসজিদ থেকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় আব্দুর রহমান নামে এক ইমামের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় তার হাত-পা বাঁধা ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

আব্দুর রহমান উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মোবারকপুর (আন্দারকোনা) জামে মসজিদের ইমাম ছিলেন। তিনি সিলেটের দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার থানার সোনাপুর গ্রামের আব্দুল বারির ছেলে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ভোরে মুসল্লিরা স্থানীয় আন্দারকোনা মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে ইমামের ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। পরে কয়েকজন মুসল্লি ঘরে ঢুকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ইমামকে ঝুলতে দেখেন। খবর পেয়ে ওসমানীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সকাল ১০টার দিকে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

নিহত ইমামের বড় ভাই জইন উদ্দিন জানান, কে বা কারা তাকে হত্যা করছে তারা এখনো বলতে পারছেন না। তার সঙ্গে কারো বিরোধ ছিল কি না সে বিষয়েও কিছু বলতে পারছেন না তিনি।

জানতে চাইলে ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল চৌধুরী বলেন, নিহত ইমামের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। হাত-পা বেঁধে হত্যার পর দুর্বৃত্তরা লাশ ঝুলিয়ে রেখে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের পর হত্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী আমাদের জানান যে, ইসকন বিরোধী ফেসবুক স্ট্যাটাস দেওয়ার পরপরই খুন হয়েছেন ওসমানীনগর মসজিদের এই খতিব মোগলাবাজারী।

জানা যায়, গত সপ্তাহে সিলেটে কাজলশাহ এলকায় ইসকনের গান বাজনার কারণে সৃষ্টি সহিংসতা বিরুদ্ধে তিনি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। স্ট্যাটাস দেয়ার মাত্র ৫ দিনের মাথায় তাকে খুন হতে হলো। স্ট্যাটাসে আব্দুর রহমান যা লিখেছিলেন তা পাঠকের জ্ঞাতার্থে হুবুহু তুলে ধরা হলোঃ-

হজরত শাহ জালাল রহঃ এর উত্তসূরীদের রক্তে কি জমাট বেধে গেছে?

গতকাল জুময়া'র নামাজের সময় সিলেটে নগরীর মধুশহীদ জামে মসজিদের অদূরে ইসকন মন্দিরে গান-বাজনা চলছিল। কয়েকজন মুসল্লি সরাসরি ইসকনদের কাছে গিয়ে অন্তন নামাজের সময় মাইক বন্ধ রাখার অনুরোধ করেন। উগ্র হিন্দুরা তাতে কর্ণপাত না করে গান-বাজনা চালিয়ে যায় এবং মুসল্লিদের সাথে বাক-বিতন্ডায় লিপ্ত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন- একপর্যায়ে তারা মসজিদের দিকে ঢিল ছুড়ে। এতে মুসল্লিরা ক্ষুব্ধ হয়ে নামাজের পর প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন। সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনাস্তলে ছুটে আসে। পুলিশের গুলিতে সাবেক মহিলা কমিশনার ও পথচারীসহ আহত হন ৫ জন। পুলিশের একমুখী ভূমিকায় ২০ জন মুসলমান আহত হন। গ্রেফতার হন আরোও ১৫ জন। অপরদিকে আহত হন শুধু একজন হিন্দু।'

উল্লেখ্য সন্ধ্যার পর গ্রেফতার হওয়া মুসল্লিদের ছেড়ে দেয়া হয়। বিষটির তদন্তের জন্য ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

উগ্র হিন্দুদের ঘৃণ্য আচরণ ও পুলিশের একতরফা ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানানো আমাদের ঈমানী কর্তব্য। সমুচিত জবাব দিতে ঐক্যবদ্ধ জাগরণের বিকল্প নেই।



শেয়ার করুন

0 facebook: